সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী 'Relevancy' ও 'Admissibility'-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর
আদালতে কোনো তথ্য সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না তা নির্ধারণে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা কাজ করে — Relevancy ও Admissibility। এই দুটি ধারণা প্রায়ই একে অপরের সমার্থক মনে হলেও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে, যা LLB Evidence Law কোর্সের একটি ভিত্তিমূলক প্রশ্ন।
সরাসরি উত্তর
Relevancy বলতে বোঝায় কোনো তথ্যের বিচার্য বিষয়ের (Fact in Issue) সঙ্গে যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক সংযোগ, যা সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫ থেকে ৫৫-এ নির্ধারিত বিভিন্ন নীতি দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। Admissibility বলতে বোঝায় একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকৃতপক্ষে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন ও গ্রহণ করা যাবে কি না — এই আইনগত অনুমতি। সহজ কথায়, প্রাসঙ্গিকতা যৌক্তিকতার প্রশ্ন, আর গ্রহণযোগ্যতা আইনি অনুমতির প্রশ্ন।
Relevancy — যৌক্তিক প্রাসঙ্গিকতা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫-৫৫ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কোন কোন তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে তা নির্ধারণ করে — যেমন, একই লেনদেনের অংশ হিসেবে সংঘটিত তথ্য (Res Gestae, ধারা ৬), কারণ ও পরিণতি সংক্রান্ত তথ্য, বা উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য। কোনো তথ্য যদি বিচার্য বিষয়ের সঙ্গে যৌক্তিকভাবে সংযুক্ত হয়, তাহলে তা প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।
Admissibility — আইনগত গ্রহণযোগ্যতা
একটি তথ্য প্রাসঙ্গিক হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। Admissibility নির্ধারণ করে যে, প্রাসঙ্গিক তথ্যটি প্রকৃতপক্ষে আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে কি না, বিশেষ করে যখন অন্য কোনো আইনি বিধান (যেমন — Privileged Communication, বা অসঠিকভাবে সংগৃহীত প্রমাণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ) তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মূল পার্থক্য — একটি উদাহরণের মাধ্যমে
ধরা যাক, একজন আসামির স্বীকারোক্তি (Confession) পুলিশ হেফাজতে আদায় করা হয়েছে। এই স্বীকারোক্তি ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় তা যৌক্তিকভাবে প্রাসঙ্গিক (Relevant)। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৫-২৬ অনুযায়ী, পুলিশ হেফাজতে আদায়কৃত স্বীকারোক্তি সাধারণত আদালতে গ্রহণযোগ্য (Admissible) নয়, নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া (যেমন — ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রদত্ত স্বীকারোক্তি)। এই উদাহরণ স্পষ্ট করে যে, প্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে একটি তথ্য অগ্রহণযোগ্য হতে পারে।
উভয়ের সম্পর্ক
সাধারণত বিচার প্রক্রিয়ায় প্রথমে যাচাই করা হয় তথ্যটি প্রাসঙ্গিক কি না, এরপর দেখা হয় তা গ্রহণযোগ্য কি না। প্রাসঙ্গিকতা ছাড়া গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নই আসে না — কিন্তু প্রাসঙ্গিক হলেই যে তা গ্রহণযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এই দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়া আদালতে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরীক্ষার খাতায় কীভাবে লিখবেন
প্রথমে উভয় ধারণার সংজ্ঞা পৃথকভাবে দিন, এরপর একটি সংক্ষিপ্ত উদাহরণ (যেমন — পুলিশ হেফাজতের স্বীকারোক্তি) দিয়ে পার্থক্যটি স্পষ্ট করুন। শেষে "প্রাসঙ্গিকতা আগে, গ্রহণযোগ্যতা পরে" — এই সাধারণ নিয়মটি উল্লেখ করলে উত্তরের কাঠামো স্পষ্ট হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
অপ্রাসঙ্গিক তথ্য কি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
না, যদি কোনো তথ্য প্রাসঙ্গিকই না হয়, তাহলে তা আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনার প্রশ্নই আসে না — গ্রহণযোগ্যতার বিশ্লেষণ কেবল প্রাসঙ্গিক তথ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই পার্থক্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই পার্থক্য বোঝা আইনজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিপক্ষের উপস্থাপিত প্রাসঙ্গিক তথ্যও যথাযথ আইনি ভিত্তিতে অগ্রহণযোগ্য বলে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।
সংক্ষিপ্তভাবে মনে রাখার বিষয়
- Relevancy — যৌক্তিক প্রাসঙ্গিকতা, ধারা ৫-৫৫
- Admissibility — আইনগত গ্রহণযোগ্যতা, অন্য বিধান দ্বারা সীমিত হতে পারে
- প্রাসঙ্গিক তথ্যও অগ্রহণযোগ্য হতে পারে (যেমন — পুলিশ হেফাজতের স্বীকারোক্তি)

মন্তব্যসমূহ (০)