সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি হয়েছে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় প্রার্থনা করেন, যা আদালত মঞ্জুর করে।
মামলার প্রেক্ষাপট
বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রশ্নের জের ধরে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ এক রায়ে সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত আইন রহিতকরণ বিল পাস হয় এবং পরদিন ১০ এপ্রিল তা আইনে পরিণত হয়ে সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ২১ এপ্রিল আপিল বিভাগে আবেদন করে সচিবালয়ের কার্যক্রম আগের অবস্থায় বহাল রাখার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চান। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষও মূল হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল দায়ের করে। এরপর জুন মাসে একাধিকবার শুনানির দিন ধার্য হলেও তা মুলতবি হয়।
১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে যা হলো
দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে সবশেষ শুনানির দিন ধার্য ছিল ১ সেপ্টেম্বর। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের প্রস্তুতির জন্য আদালতের কাছে সময় চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য মুলতবি রাখে।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ
বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা সংবিধানের একটি মৌলিক নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব সচিবালয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ, বাজেট ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবে, নাকি নির্বাহী বিভাগের অধীন মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে — এই প্রশ্নের চূড়ান্ত মীমাংসা এখনো হয়নি। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল থাকবে, নাকি বিলুপ্তই থেকে যাবে। সম্প্রতি আপিল বিভাগে নতুন বিচারপতি নিয়োগ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, যা বিচার বিভাগের কাঠামোগত পরিবর্তনের এই সময়ে প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান অবস্থা
যেহেতু আপিল বিভাগ ১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষকে সময় দিয়েছে, তাই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি এবং পরবর্তী শুনানির দিন পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে। এই মামলার ফলাফল বিচার বিভাগের কাঠামোগত স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে আইনজ্ঞ মহল মনে করছে।

মন্তব্যসমূহ (০)