থানায় মামলা হওয়ার পর অনেক সময় দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে ফেলতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে সব ফৌজদারি মামলা ইচ্ছেমতো আপস করে তুলে নেওয়া যায় না। কোন অপরাধ আপস করা যায় এবং কীভাবে — তা নির্ধারিত আছে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৩৪৫ ধারায়।
আপসযোগ্য অপরাধ বলতে কী বোঝায়
যেসব অপরাধে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ পান, সেগুলোকেই আপসযোগ্য বা কম্পাউন্ডেবল অপরাধ বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে আইন ধরে নেয় যে অপরাধটি মূলত ব্যক্তিগত ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সমাজের বিরুদ্ধে এর প্রভাব তুলনামূলক কম।
দুই ধরনের আপসযোগ্য অপরাধ
আদালতের অনুমতি ছাড়া আপসযোগ্য
কিছু লঘু প্রকৃতির অপরাধ — যেমন সাধারণ আঘাত (simple hurt) বা কিছু নির্দিষ্ট মানহানিমূলক অপরাধ — ভুক্তভোগী চাইলে আদালতের আলাদা অনুমতি ছাড়াই সরাসরি আপস করতে পারেন।
আদালতের অনুমতিক্রমে আপসযোগ্য
তুলনামূলক গুরুতর কিছু অপরাধ — যেমন কিছু নির্দিষ্ট ধরনের প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত অপরাধ — আপস করতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। আদালত পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুমতি দেয় বা নাও দিতে পারে।
যেসব অপরাধ কখনোই আপসযোগ্য নয়
খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধ কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয় — এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী রাজি হলেও রাষ্ট্র নিজেই বাদী হিসেবে বিচার চালিয়ে যায়, কারণ এসব অপরাধকে শুধু ব্যক্তির নয়, পুরো সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন অপরাধগুলোও সাধারণত আপসযোগ্য নয়।
আপস করার প্রক্রিয়া
- দুই পক্ষ সমঝোতায় রাজি হলে লিখিতভাবে আদালতের কাছে আপসনামা দাখিল করতে হয়।
- যেসব ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন, সেখানে আদালত ঘটনার প্রকৃতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়।
- আদালত সন্তুষ্ট হলে অভিযুক্তকে খালাস দেওয়া হয়।
মনে রাখা জরুরি, আদালতের বাইরে মৌখিক আপস হলেও মামলার আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের জন্য তা আদালতের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করতেই হয়।
কেন এই পার্থক্য জানা জরুরি
অনেকেই না জেনে গুরুতর অপরাধেও আপসের চেষ্টা করেন, যা আইনত সম্ভব নয়। মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী আপসের সুযোগ আছে কি না তা আগেই যাচাই করা উচিত, প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে। থানায় মামলা দায়েরের প্রাথমিক নিয়ম জানতে পড়ুন থানায় এজাহার (এফআইআর) দায়েরের সঠিক নিয়ম।

মন্তব্যসমূহ (০)