বাংলাদেশে যাদের বার্ষিক আয় নির্ধারিত করমুক্ত সীমার বেশি অথবা যাদের টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) রয়েছে, তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা আয়কর আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। এই বাধ্যবাধকতা অগ্রাহ্য করলে করদাতাকে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
কারা রিটার্ন দাখিলে বাধ্য
যাদের টিআইএন রয়েছে, নির্দিষ্ট আয়সীমার ঊর্ধ্বে আয় করেন, ব্যবসা পরিচালনা করেন, অথবা যেসব সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক (যেমন ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ি নিবন্ধন, ব্যাংক ঋণ, সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণ ইত্যাদি) — তাদের নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে কী হতে পারে
- বিলম্ব সুদ ও জরিমানা: নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দাখিল করলে কর কর্তৃপক্ষ বিলম্বের জন্য জরিমানা বা অতিরিক্ত সুদ আরোপ করতে পারে।
- টিআইএন সনদ-নির্ভর সেবা বন্ধ হওয়া: রিটার্নের প্রমাণ (অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ) ছাড়া অনেক সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা যায় না, ফলে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
- কর কর্তৃপক্ষের নোটিশ: দীর্ঘদিন রিটার্ন না দিলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নোটিশ পাঠিয়ে কারণ জানতে চাইতে পারে বা নিজস্ব মূল্যায়নে কর নির্ধারণ করতে পারে।
- ফৌজদারি দায়বদ্ধতার ঝুঁকি: ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘমেয়াদি কর ফাঁকি বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা গুরুতর আইনি জটিলতায় গড়াতে পারে।
রিটার্ন দাখিলের সাধারণ প্রক্রিয়া
- টিআইএন সার্টিফিকেট ও প্রয়োজনীয় আয়-ব্যয়ের নথিপত্র সংগ্রহ করা
- নির্ধারিত রিটার্ন ফরমে আয়, সম্পদ ও দায়ের বিবরণ পূরণ করা
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর পরিশোধ করা
- সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে বা অনলাইন সিস্টেমে রিটার্ন জমা দিয়ে অ্যাকনলেজমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করা
মনে রাখা জরুরি
জরিমানা বা সুদের সুনির্দিষ্ট হার সময়ে সময়ে বাজেট ও আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই হালনাগাদ হার ও সময়সীমা জানতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ কর অঞ্চল অফিসে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। জটিল কর পরিস্থিতিতে একজন আয়কর আইনজীবী বা কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়াও বিচক্ষণতার পরিচয়।

মন্তব্যসমূহ (০)