শহর এলাকায় নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকলে প্রতি বছর হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহকর পরিশোধ করতে হয়। অনেকেই এই করকে ঐচ্ছিক মনে করেন, কিন্তু আইনগতভাবে এটি একটি বাধ্যতামূলক পৌর কর।
হোল্ডিং ট্যাক্স কী এবং কে আদায় করে
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সংক্রান্ত) আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে নিজ এলাকার বাড়ি-স্থাপনার ওপর কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই করকেই সাধারণভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স বলা হয়, যা মূলত রাস্তা, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার ব্যয় নির্বাহে ব্যবহৃত হয়।
কর নির্ধারণের পদ্ধতি
সাধারণত বাড়ির অবস্থান, আয়তন, নির্মাণ শ্রেণি এবং সম্ভাব্য বার্ষিক ভাড়ামূল্যের ভিত্তিতে একটি "বার্ষিক মূল্যায়িত মূল্য" নির্ধারণ করা হয়, এবং তার ওপর নির্দিষ্ট শতাংশ হারে কর ধার্য হয়। প্রতি কয়েক বছর পরপর এলাকাভিত্তিক পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে, যার ফলে করের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
পরিশোধের বাধ্যবাধকতা
বাড়ির মালিক হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করা আইনগত দায়িত্ব। ভাড়াটিয়া থাকলেও কর পরিশোধের মূল দায় সাধারণত সম্পত্তির মালিকের ওপরই বর্তায়, যদিও চুক্তিতে ভিন্ন শর্ত থাকতে পারে।
না দিলে কী হতে পারে
- নির্ধারিত সময়ে না দিলে বকেয়ার ওপর জরিমানা বা সুদ আরোপ হতে পারে।
- দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা সম্পত্তি ক্রোক করে বকেয়া আদায়ের আইনগত ক্ষমতা রাখে।
- বকেয়া থাকা অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তর বা নামজারিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মূল্যায়ন নিয়ে দ্বিমত হলে করণীয়
বাড়ির মালিক যদি মনে করেন নির্ধারিত মূল্যায়ন অযৌক্তিকভাবে বেশি হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত আপত্তি জানানোর এবং প্রয়োজনে আপিল করার সুযোগ থাকে। আপত্তির সঙ্গে তুলনামূলক ভাড়ামূল্য বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ যুক্ত করলে পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা বাড়ে।
নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণই নয়, ভবিষ্যতে সম্পত্তি হস্তান্তর বা ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রেও নথিপত্র সহজ রাখতে সহায়ক।

মন্তব্যসমূহ (০)