ব্যাংক হিসাব থেকে অজ্ঞাত লেনদেন, কার্ড জালিয়াতি বা প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়ে টাকা হারানো—এসব ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
প্রথমেই কী করবেন
সন্দেহজনক লেনদেন নজরে এলে সবার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় বা কল সেন্টারে লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং কার্ড বা হিসাব সাময়িকভাবে ব্লক করার অনুরোধ করতে হবে। যত দ্রুত জানানো যায়, ক্ষতি ঠেকানোর সম্ভাবনা তত বেশি থাকে।
ব্যাংকে অভিযোগের প্রক্রিয়া
- ব্যাংকের নির্ধারিত অভিযোগ ফরমে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, লেনদেনের তারিখ ও পরিমাণ উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে হয়।
- ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে জানাতে বাধ্য থাকে।
- ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে ক্ষতি হলে ব্যাংক ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ
ব্যাংক থেকে যথাযথ প্রতিকার না পেলে গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সমন্বিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেবা (হেল্পলাইন ও অনলাইন পোর্টাল) মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
ফৌজদারি মামলার সুযোগ
জালিয়াতি যদি প্রতারকচক্র বা তৃতীয় পক্ষের ইচ্ছাকৃত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফল হয়—যেমন জাল চেক, ভুয়া পরিচয়ে হিসাব খোলা বা কার্ডের তথ্য চুরি—তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা যায়। প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে যদি ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম জড়িত থাকে।
প্রমাণ সংরক্ষণ কেন গুরুত্বপূর্ণ
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও লেনদেনের এসএমএস/ইমেইল নোটিফিকেশন সংরক্ষণ করা।
- ব্যাংকে করা অভিযোগের রিসিভড কপি রাখা।
- প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে সেই কথোপকথনের প্রমাণ রাখা।
ব্যাংকিং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত পদক্ষেপ এবং সঠিক কর্তৃপক্ষে অভিযোগ করাই টাকা ফেরত পাওয়ার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

মন্তব্যসমূহ (০)