আর্থিক অসচ্ছলতা যেন কারো ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা না হয়, সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশে রয়েছে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান ব্যবস্থা। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীনে গঠিত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (এনএলএএসও) এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন এই সেবা দিয়ে থাকে।
কারা লিগ্যাল এইড পাওয়ার যোগ্য
সাধারণত নির্ধারিত আয়সীমার নিচে থাকা ব্যক্তি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ভুক্তভোগী, দরিদ্র বিচারপ্রার্থী, কারাবন্দি যাদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নেই, এবং সমাজের অন্যান্য অনগ্রসর ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এই সেবার জন্য আবেদন করতে পারেন। যোগ্যতার সুনির্দিষ্ট আয়সীমা সময়ে সময়ে সরকারিভাবে নির্ধারিত হয়।
কীভাবে আবেদন করবেন
- জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির (প্রতিটি জেলা জজ আদালতের সঙ্গে সংযুক্ত) কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা
- প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও আয়ের সপক্ষে তথ্য প্রদান করা
- আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে বিনামূল্যে আইনজীবী নিয়োগ করে দেওয়া হয়
- জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইনের মাধ্যমেও প্রাথমিক পরামর্শ নেওয়া যায়
ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ও সেফ হোম
নারী ও শিশু নির্যাতনের ভুক্তভোগীদের জন্য দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) চালু আছে, যেখানে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয় একই ছাদের নিচে পাওয়া যায়। এছাড়া বিপন্ন নারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সেফ হোম বা আশ্রয়কেন্দ্রও রয়েছে।
বেসরকারি সংগঠনের ভূমিকা
ব্লাস্ট (BLAST), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর মতো বেসরকারি সংগঠনও বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে আইনি পরামর্শ, মধ্যস্থতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক সহায়তা দিয়ে থাকে, বিশেষত যেসব ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থার বাইরে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।
মনে রাখা জরুরি বিষয়
- জরুরি বিপদে প্রথমে নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করুন
- লিগ্যাল এইড সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে — এর জন্য কোনো ফি দেওয়ার প্রয়োজন নেই
- প্রাথমিক পরামর্শের জন্য স্থানীয় জেলা জজ আদালত চত্বরে লিগ্যাল এইড অফিস খুঁজে নিন
লিগ্যাল এইড সেবা সবার জন্য বাস্তবে কতটা সহজলভ্য, তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন আইনগত সহায়তা কি সত্যি সবার নাগালে।

মন্তব্যসমূহ (০)