ফৌজদারি মামলায় সত্য উদ্ঘাটনের জন্য সাক্ষীর সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাস্তবে অনেক সাক্ষী প্রভাবশালী অভিযুক্তের হুমকি বা চাপে সাক্ষ্য দিতে ভয় পান কিংবা আদালতে গিয়ে বক্তব্য পাল্টে ফেলেন। এই সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশে এখনও কোনো সুসংহত, একক সাক্ষী সুরক্ষা আইন নেই — এটি দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি স্বীকৃত ঘাটতি হিসেবে আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত করে আসছে।
বর্তমানে বিদ্যমান আংশিক সুরক্ষা ব্যবস্থা
ইন-ক্যামেরা বা গোপন বিচার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ কিছু বিশেষ আইনে স্পর্শকাতর মামলার শুনানি সাধারণ প্রকাশ্য আদালতের পরিবর্তে বন্ধ কক্ষে (in-camera) পরিচালনার বিধান রয়েছে, যাতে ভুক্তভোগী বা সাক্ষী সামাজিক চাপ বা প্রকাশ্য হয়রানি এড়াতে পারেন।
পরিচয় গোপন রাখা
কিছু ক্ষেত্রে আদালত সাক্ষীর পরিচয় সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ্য নথি থেকে সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিতে পারে, যদিও এটি নিয়মিত অনুশীলন নয়।
পুলিশি সুরক্ষা
সাক্ষী সরাসরি হুমকির শিকার হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা ফৌজদারি অভিযোগ করে পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া যায়, এবং প্রয়োজনে আদালতও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতে পারে।
কেন এটি এখনও ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত
উন্নত অনেক দেশে সাক্ষীর জন্য পরিচয় পরিবর্তন, স্থানান্তর, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সহায়তাসহ সুসংহত সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যাপক, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি — বিদ্যমান ব্যবস্থা মূলত মামলাভিত্তিক ও আংশিক, একটি পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা চললেও তা এখনও চূড়ান্ত আইনে রূপ নেয়নি।
সাক্ষী হুমকির শিকার হলে করণীয়
- হুমকি বা চাপের ঘটনা যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ থানায় লিখিতভাবে জানান।
- মামলা যে আদালতে বিচারাধীন, সেই আদালতকেও বিষয়টি অবহিত করা যায়, যাতে আদালত প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক নির্দেশনা দিতে পারে।
- হুমকির প্রমাণ (বার্তা, রেকর্ডিং, সাক্ষী) যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করুন।
- প্রয়োজনে আইনি সহায়তা সংস্থা বা মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তা নিন।
ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর জন্য বাস্তব পরামর্শ
সাক্ষ্য দেওয়ার আগে ও পরে নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকুন, একা চলাফেরা এড়িয়ে চলুন প্রয়োজনে, এবং আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে আগেভাগেই নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে রাখুন — এটি আদালতকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সহায়ক করে।
ভুক্তভোগীদের জন্য লিগ্যাল এইড ও আইনগত সুরক্ষা সেবা কীভাবে পাবেন জানতে পড়ুন ভুক্তভোগীদের জন্য লিগ্যাল এইড ও আইনগত সুরক্ষা সেবা কীভাবে পাবেন।

মন্তব্যসমূহ (০)