ঘরে ঘরে কাজ করা লাখো গৃহকর্মীর অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন স্পষ্ট আইনি কাঠামোর অভাব ছিল। যদিও একটি পূর্ণাঙ্গ আইন এখনো প্রণীত হয়নি, তবে বিদ্যমান নীতিমালা ও সাধারণ আইনে তাদের জন্য নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে।
গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা
সরকার গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যেখানে গৃহকর্মীর ন্যূনতম বয়স, যুক্তিসংগত কর্মঘণ্টা, বিশ্রামের সময়, মজুরি পরিশোধ ও সাপ্তাহিক ছুটির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এটি প্রচলিত শ্রম আইনের মতো সরাসরি আদালতে বলবৎযোগ্য কোনো আইন নয়, বরং নির্দেশনামূলক দলিল।
শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা
গৃহকর্মীর প্রতি শারীরিক নির্যাতন, মারধর বা যৌন হয়রানি ঘটলে তা সাধারণ দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়—এক্ষেত্রে গৃহকর্মী হওয়া কোনো ব্যতিক্রম তৈরি করে না।
শিশু গৃহকর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা
শিশু শ্রম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতির আওতায় নির্দিষ্ট ন্যূনতম বয়সের নিচে শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ নিরুৎসাহিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ গৃহকর্মে শিশুদের নিয়োগ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর প্রতি অবহেলা বা নির্যাতনও পৃথক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মজুরি না পেলে করণীয়
নির্ধারিত মজুরি না দেওয়া বা জোরপূর্বক শ্রম আদায় করা হলে ভুক্তভোগী বা তার পরিবার স্থানীয় প্রশাসন বা থানায় অভিযোগ জানাতে পারেন। গুরুতর ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায়ও বিবেচিত হতে পারে।
নিয়োগকর্তার জন্য পরামর্শ
- গৃহকর্মীর সঙ্গে মৌখিক হলেও মজুরি ও কাজের শর্ত স্পষ্ট রাখা।
- ন্যূনতম বয়সের নিচে শিশুকে নিয়োগ না দেওয়া।
- অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা।
একটি পূর্ণাঙ্গ গৃহকর্মী সুরক্ষা আইনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও, বর্তমানে বিদ্যমান নীতিমালা ও সাধারণ ফৌজদারি আইনের মাধ্যমেই গৃহকর্মীদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ (০)