একটি চুক্তি বৈধ হতে হলে তাতে উভয় পক্ষের স্বাধীন ও স্বেচ্ছাকৃত সম্মতি থাকা আবশ্যক। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় ভয় দেখিয়ে, মিথ্যা বলে বা ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে মানুষকে চুক্তিতে সই করানো হয়। চুক্তি আইন, ১৮৭২ এই ধরনের চুক্তিকে বাতিলযোগ্য বলে ঘোষণা করার সুযোগ দিয়েছে।
জবরদস্তি (Coercion)
কাউকে শারীরিক ক্ষতির ভয় দেখিয়ে, বেআইনিভাবে সম্পত্তি আটকে রেখে বা অন্য কোনো ভীতি প্রদর্শন করে চুক্তিতে সম্মত করানো হলে তা জবরদস্তি হিসেবে গণ্য হয়। এমন চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের ইচ্ছায় বাতিল করার অধিকার তৈরি করে।
প্রতারণা (Fraud)
ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা প্রতারণামূলক কোনো কৌশলে অন্য পক্ষকে চুক্তিতে সম্মত করানো হলে তা প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, জমির প্রকৃত মালিকানা গোপন করে বিক্রয় চুক্তি করা।
অসম প্রভাব (Undue Influence)
যখন একটি পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর এমন প্রভাব বিস্তার করে যে সে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়—যেমন নিয়োগকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক-নাবালক বা চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্কের সুযোগ নেওয়া—তখন তা অসম প্রভাব হিসেবে গণ্য হয়।
ভুল বোঝাবুঝি (Misrepresentation)
ইচ্ছাকৃত না হলেও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদিত হলে তা ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা প্রতারণার চেয়ে হালকা হলেও চুক্তি বাতিলের ভিত্তি হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের প্রতিকার
- চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করার আবেদন করা যায়।
- ইতিমধ্যে যা প্রদান করা হয়েছে, তা ফেরত পাওয়ার দাবি করা যায়।
- ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষতিপূরণও দাবি করা যেতে পারে।
কেন এই বিষয়গুলো জানা জরুরি
জমি বিক্রয়, ঋণ চুক্তি বা ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে অনেক সময় একপক্ষ চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত সই করিয়ে নেয়। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে দেরি না করে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে চুক্তি বাতিলের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, কারণ দীর্ঘদিন চুপ থাকলে চুক্তিটি বহাল থাকার পক্ষে যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ (০)