কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পরও উদ্যোক্তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রতিটি নিবন্ধিত কোম্পানিকে নিয়মিত কিছু বার্ষিক আইনি বাধ্যবাধকতা পালন করতে হয়, যা অনেক নতুন উদ্যোক্তাই শুরুতে খেয়াল রাখেন না।
বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) কেন প্রয়োজন
প্রতি অর্থবছর শেষে কোম্পানিকে শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে একটি বার্ষিক সাধারণ সভা (Annual General Meeting) আয়োজন করতে হয়, যেখানে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, পরিচালক নিয়োগ বা পুনর্নিয়োগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এটি শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
বার্ষিক রিটার্ন দাখিল
AGM অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানিকে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্ম নিবন্ধকের কার্যালয়ে (RJSC) বার্ষিক রিটার্ন দাখিল করতে হয়, যেখানে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও মূলধন কাঠামোর হালনাগাদ তথ্য উল্লেখ থাকে।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এমন অন্যান্য নথি
- শেয়ারহোল্ডারদের রেজিস্টার
- পরিচালকদের রেজিস্টার
- সভার কার্যবিবরণী (মিনিটস) সংরক্ষণ
- নিরীক্ষিত (audited) আর্থিক প্রতিবেদন
বাধ্যবাধকতা পালন না করলে কী হতে পারে
- আরজেএসসিতে জরিমানা বা বিলম্ব ফি আরোপ হতে পারে
- কোম্পানির আইনগত সচলতা (good standing) প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে
- ব্যাংক ঋণ, টেন্ডারে অংশগ্রহণ বা বিনিয়োগ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হতে পারে
- দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে অবহেলা করলে কোম্পানি বাতিলের (strike off) ঝুঁকিও থাকে
ছোট ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ
কোম্পানি নিবন্ধনের সময়ই একজন কোম্পানি সেক্রেটারি বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে বার্ষিক সম্মতি (annual compliance) সংক্রান্ত একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করে রাখা ভালো, যাতে নির্ধারিত সময়সীমা মিস না হয়। কোম্পানি নিবন্ধনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন বাংলাদেশে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনের ধাপে ধাপে নিয়ম।

মন্তব্যসমূহ (০)