অনলাইনে অর্ডার দিয়ে টাকা পরিশোধের পর পণ্য না আসা, ছবির সঙ্গে না মেলা পণ্য পাঠানো বা নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে। সৌভাগ্যক্রমে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ শুধু দোকানে নয়, অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
কোন ধরনের অভিযোগ করা যায়
- টাকা পরিশোধের পরও পণ্য সরবরাহ না করা
- বিজ্ঞাপনে দেখানো পণ্যের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের অমিল
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য না পৌঁছানো
- নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য পাঠিয়ে ফেরত বা রিফান্ডে অস্বীকৃতি
- ভুয়া ছাড় বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে গ্রাহককে প্রলুব্ধ করা
অভিযোগ করার আগে যা সংগ্রহ করবেন
অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ যত শক্তিশালী হবে, প্রতিকার পাওয়া তত সহজ হবে। তাই সংগ্রহ করে রাখুন:
- অর্ডার কনফার্মেশন বা চ্যাট কথোপকথনের স্ক্রিনশট
- পেমেন্টের প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং রশিদ)
- বিক্রেতার পেজ বা ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনের স্ক্রিনশট
- পাওয়া পণ্যের ছবি (ত্রুটিপূর্ণ হলে)
অভিযোগ করার পদ্ধতি
- জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন (১৬১২১) নম্বরে কল করা
- অধিদপ্তরের অনলাইন অভিযোগ পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া
- প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংযুক্ত করা
- অভিযোগ যাচাইয়ের পর অধিদপ্তর বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠিয়ে জবাব চায়
প্রতারণা গুরুতর হলে
যদি প্রতারণার পরিমাণ বড় হয় বা তা সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের অংশ মনে হয়, তাহলে থানায় সরাসরি ফৌজদারি অভিযোগও দায়ের করা যায়। অনলাইন প্রতারণা বা হয়রানির শিকার হলে সাধারণভাবে কী আইনি প্রতিকার আছে তা বিস্তারিত জানতে পড়ুন অনলাইনে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে আইনি প্রতিকার কী।
ভবিষ্যতে প্রতারণা এড়াতে
অপরিচিত পেজ বা ওয়েবসাইট থেকে বড় অঙ্কের অগ্রিম পেমেন্ট এড়িয়ে চলা, সম্ভব হলে ক্যাশ অন ডেলিভারি বেছে নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের রিভিউ ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে নেওয়া — এই সাধারণ সতর্কতাগুলো অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

মন্তব্যসমূহ (০)