অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেকেই সময়মতো পণ্য না পাওয়া, ভুল পণ্য পাঠানো বা টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ডিজিটাল কমার্স গ্রাহক সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে।
নীতিমালার উদ্দেশ্য
দ্রুত বর্ধনশীল ই-কমার্স খাতে গ্রাহক ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল কমার্স গ্রাহক সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি নির্ধারণ করে।
বিক্রেতা ও প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব
- পণ্যের সঠিক ছবি, বিবরণ, মূল্য ও প্রাপ্যতা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা।
- অর্ডার নিশ্চিতকরণ ও ডিজিটাল রসিদ গ্রাহককে প্রদান করা।
- নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- পণ্য ফেরত ও টাকা ফেরতের স্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা।
ক্রেতার অধিকার
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য না পৌঁছালে ক্রেতা সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী। এছাড়া অর্ডারকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রাপ্ত পণ্যের অমিল হলে, বা পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পৌঁছালে, তা ফেরত দিয়ে প্রতিস্থাপন বা টাকা ফেরত চাওয়ার অধিকারও ক্রেতার রয়েছে।
অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত সুরক্ষা
অগ্রিম পরিশোধিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে নির্দিষ্ট শ্রেণির লেনদেনে "এসক্রো" পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনাও নীতিমালায় রয়েছে, যাতে পণ্য প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ হওয়ার পরই বিক্রেতা সম্পূর্ণ অর্থ পান।
অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া
- প্রথমে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবায় লিখিত অভিযোগ জানাতে হয়।
- যথাযথ সমাধান না পেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দাখিল করা যায়।
- বড় আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে থানায় ফৌজদারি অভিযোগও করা যেতে পারে।
অনলাইনে কেনাকাটার সময় প্রতিষ্ঠানের রিভিউ, রিটার্ন নীতিমালা ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে নেওয়া—এবং সব লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা—ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

মন্তব্যসমূহ (০)