j
তথ্যপ্রযুক্তি আইন

ইলেকট্রনিক লেনদেন ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের আইনগত স্বীকৃতি বাংলাদেশে কতটুকু

ডিজিটাল স্বাক্ষর ও ইলেকট্রনিক নথির প্রতীকী দৃশ্য অনলাইন লেনদেনের আইনগত স্বীকৃতি বোঝাতে
প্রতীকী ছবি: তথ্যপ্রযুক্তি আইন

মূল পয়েন্ট

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী ইলেকট্রনিক রেকর্ড ও ডিজিটাল স্বাক্ষর কাগুজে নথির মতোই আইনগত স্বীকৃতি পায়
  • স্বীকৃত সার্টিফাইং অথরিটি থেকে ইস্যু করা ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট ব্যবহার করলে তা আইনি প্রমাণ হিসেবে শক্তিশালী হয়
  • কিছু নির্দিষ্ট নথি — যেমন উইল বা জমির দলিল — এখনও ইলেকট্রনিক ফর্মে সম্পূর্ণ বৈধ নয়
  • ই-চুক্তি লঙ্ঘন হলে সাধারণ চুক্তি আইনের নীতি অনুযায়ীই প্রতিকার পাওয়া যায়

অনলাইনে পণ্য অর্ডার, ব্যাংকিং লেনদেন বা ই-মেইলে চুক্তি সম্পাদনের ঘটনা এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। কিন্তু এসব ইলেকট্রনিক লেনদেন কি কাগুজে স্বাক্ষরের মতোই আইনগতভাবে বৈধ? এর উত্তর দেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬।

ইলেকট্রনিক রেকর্ডের আইনগত স্বীকৃতি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী, কোনো তথ্য বা নথি শুধু ইলেকট্রনিক আকারে আছে বলেই তার আইনগত বৈধতা অস্বীকার করা যায় না। অর্থাৎ ই-মেইল, এসএমএস বা অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত সম্মতি বা চুক্তিও যথাযথ পরিস্থিতিতে আইনগত প্রমাণ ও কার্যকর দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ডিজিটাল স্বাক্ষর কীভাবে কাজ করে

ডিজিটাল স্বাক্ষর হলো একটি প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, যা নিশ্চিত করে যে কোনো ইলেকট্রনিক নথি নির্দিষ্ট ব্যক্তিই স্বাক্ষর করেছেন এবং পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়নি। বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ (CCA) নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট ইস্যু করার অনুমোদন দিয়ে থাকে। এমন স্বীকৃত সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সম্পাদিত ডিজিটাল স্বাক্ষর আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।

কোন কোন ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ফর্ম এখনও পর্যাপ্ত নয়

সব ধরনের আইনি নথির ক্ষেত্রেই ইলেকট্রনিক ফর্ম সমান গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত উইল (ওসিয়তনামা), জমির রেজিস্ট্রেশনযোগ্য দলিল এবং নির্দিষ্ট কিছু আদালতি বা সরকারি নথির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে এখনও কাগুজে ও যথাযথ রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনীয়তা বহাল রয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে শুধু ই-মেইল বা ডিজিটাল ফাইলের মাধ্যমে সম্পাদিত নথি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

ই-চুক্তি লঙ্ঘন হলে প্রতিকার

অনলাইনে সম্পাদিত চুক্তি লঙ্ঘিত হলে চুক্তি আইনের সাধারণ নীতিই প্রযোজ্য হয় — ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ক্ষতিপূরণ বা চুক্তি বলবৎ করার প্রতিকার চাইতে পারেন। পার্থক্য শুধু প্রমাণের ধরনে — ইলেকট্রনিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ই-মেইল, লগ ফাইল, লেনদেনের সময়-তারিখ ও আইপি ঠিকানার মতো প্রযুক্তিগত প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ব্যবসায়িক ব্যবহারে সতর্কতা

  • গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির ক্ষেত্রে স্বীকৃত সার্টিফাইং অথরিটির ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করা নিরাপদ
  • ই-মেইল বা চ্যাটের মাধ্যমে হওয়া সম্মতির স্ক্রিনশট ও রেকর্ড সংরক্ষণ করুন
  • জমি বা বড় সম্পদ সংক্রান্ত লেনদেনে শুধু ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর না করে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন

অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার সাধারণ আইনগত নিয়মকানুন জানতে পড়ুন অনলাইন ব্যবসা পরিচালনার আইনগত নিয়মকানুন: ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)