ফেসবুক পেজ বা নিজস্ব ওয়েবসাইটে পণ্য বিক্রি করা এখন খুবই সাধারণ একটি ব্যবসায়িক মডেল। তবে এই ধরনের অনলাইন ব্যবসাও নিয়মের বাইরে নয় — বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ২০১৮ (২০২০ সালে সংশোধিত)-এর আওতায় ২০২১ সালে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নীতিমালা জারি করেছে, যা ই-কমার্স ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দিয়েছে।
বাধ্যতামূলক তথ্য প্রকাশ
নীতিমালা অনুযায়ী, ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেসে পণ্যের বিবরণ, মূল্য ও রিটার্ন নীতিমালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। প্রতিটি ডিজিটাল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইউবিআইডি থাকা আবশ্যক এবং তা মার্কেটপ্লেস বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রদর্শন করতে হবে।
পণ্য সরবরাহের সময়সীমা
পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর একই শহরের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে হবে সর্বোচ্চ ৫ দিনের মধ্যে, আর ভিন্ন শহরে হলে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে। পচনশীল বা নিয়মিত ব্যবহারের পণ্যের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত সরবরাহ করতে হয়।
নিষিদ্ধ কার্যক্রম
- মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্কিং পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক জাতীয় পণ্য বিক্রি
- বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নিজস্ব ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফট কার্ড বা বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা
তথ্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা
ব্যবসা সংক্রান্ত সব তথ্য অন্তত ৬ বছর সংরক্ষণ করতে হয় এবং সরকারি কোনো সংস্থা চাইলে তা সরবরাহ করতে হয়।
মনে রাখা জরুরি বিষয়
ছোট পরিসরের ফেসবুক-ভিত্তিক ব্যবসাও এই নীতিমালার আওতার বাইরে নয়। ব্যবসা বড় হওয়ার আগেই ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনের মতো মৌলিক কাগজপত্র ঠিক করে রাখলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

মন্তব্যসমূহ (০)