j
শ্রমিক অধিকার

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হলে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনগত প্রক্রিয়া

কারখানা ও শ্রমিক সুরক্ষার প্রতীকী দৃশ্য কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বোঝাতে
প্রতীকী ছবি: শ্রমিক অধিকার

মূল পয়েন্ট

  • বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের বিধান রাখে
  • ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সাধারণত আহতের ধরন, কর্মক্ষমতা হ্রাসের মাত্রা ও শ্রমিকের বেতনের সঙ্গে সম্পর্কিত
  • দুর্ঘটনার তথ্য যথাসময়ে মালিক ও শ্রম পরিদর্শকের কাছে জানানো জরুরি
  • ক্ষতিপূরণ না পেলে শ্রম আদালতে মামলা করার সুযোগ আছে

কারখানা, নির্মাণকাজ বা ভারী যন্ত্রপাতির সঙ্গে জড়িত কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত ঝুঁকি। এমন দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে শ্রমিক বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আইনি দায় সাধারণত মালিকপক্ষের ওপর বর্তায়, যা নিয়ন্ত্রিত হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী।

কোন ধরনের দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণের আওতায় পড়ে

কর্মরত অবস্থায় বা কর্মসংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে ঘটা দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত, স্থায়ী বা অস্থায়ী পঙ্গুত্ব কিংবা মৃত্যু ঘটলে তা সাধারণত ক্ষতিপূরণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে শ্রমিক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে আহত করলে বা নিরাপত্তাবিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গুরুতর অসদাচরণ করলে কিছু ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হতে পারে।

ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে বিবেচ্য বিষয়

  • আঘাতের গুরুত্ব — স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা, স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা, অস্থায়ী অক্ষমতা নাকি মৃত্যু
  • শ্রমিকের মাসিক গড় মজুরি
  • দুর্ঘটনার কারণে কর্মক্ষমতা হ্রাসের মাত্রা

সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণে আইনে একটি সূত্র ও সারণি অনুসরণ করা হয়, যা শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

দাবি করার প্রক্রিয়া

  1. দুর্ঘটনার পরপরই তা মালিক বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়।
  2. গুরুতর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রম পরিদর্শকের কার্যালয়েও তা অবহিত করা আইনি বাধ্যবাধকতা।
  3. মালিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব না করলে বা শ্রমিক তাতে সন্তুষ্ট না হলে শ্রম আদালতে আবেদন করা যায়।
  4. আদালত প্রমাণ ও চিকিৎসা সনদ পর্যালোচনা করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়।

মালিকের দায়িত্ব

শুধু দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়াই নয়, শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ, বিপজ্জনক যন্ত্রপাতিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়াও মালিকের আইনি দায়িত্বের অংশ। এসব ব্যবস্থা না থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকের দায় আরও বেশি বলে বিবেচিত হতে পারে।

ব্যবহারিক পরামর্শ

  • দুর্ঘটনার পরপরই চিকিৎসা নথি, সাক্ষী ও ঘটনাস্থলের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
  • মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ লিখিতভাবে রাখার চেষ্টা করুন
  • জটিলতা দেখা দিলে শ্রম আইনে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা শ্রমিক সংগঠনের সহায়তা নিন

শ্রম আইনে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার — কর্মঘণ্টা, ছুটি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন শ্রম আইনে শ্রমিকের মৌলিক অধিকার: কর্মঘণ্টা, ছুটি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)