নিজেদের অধিকার আদায়ে সম্মিলিতভাবে কথা বলার জন্য শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আইনগত অধিকার রয়েছে, যদিও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে এই অধিকার প্রয়োগে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আইনগত ভিত্তি
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ শ্রমিকদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠন গঠন ও যোগদানের অধিকার নিশ্চিত করে। এই অধিকার সংবিধানের সংগঠন করার স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নিবন্ধনের শর্ত
- প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম শতাংশের সমর্থন থাকতে হয়।
- ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র, কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা ও সদস্যদের তথ্যসহ শ্রম অধিদপ্তরে নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়।
- শ্রম অধিদপ্তর যাচাই করে শর্ত পূরণ হলে ইউনিয়ন নিবন্ধন করে।
ইউনিয়ন করার কারণে চাকরিচ্যুতি বেআইনি
শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো শ্রমিককে শুধু ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হওয়া বা এর কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে চাকরিচ্যুত করা, বদলি করা বা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা "অন্যায্য শ্রম আচরণ" হিসেবে গণ্য হয় এবং তা আইনত নিষিদ্ধ।
দর কষাকষির অধিকার
নিবন্ধিত ইউনিয়ন মালিকপক্ষের সঙ্গে বেতন-ভাতা, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যৌথ দর কষাকষি করার আইনগত অধিকার রাখে। এই প্রক্রিয়ায় উভয়পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে শ্রম আইনে নির্ধারিত বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
অধিকার লঙ্ঘিত হলে করণীয়
ইউনিয়ন কার্যক্রমের কারণে কোনো শ্রমিক প্রতিশোধমূলক আচরণের শিকার হলে তিনি শ্রম অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে শ্রম আদালতে অন্যায্য শ্রম আচরণের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।
সংগঠিত হওয়ার অধিকার শুধু আইনি বিষয় নয়—এটি শ্রমিকদের সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

মন্তব্যসমূহ (০)