বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (পরবর্তী সংশোধনীসহ) দেশের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য কর্মঘণ্টা, ছুটি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই অধিকারগুলো জানা প্রতিটি শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
দৈনিক ও সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা
আইন অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা দৈনিক ৮ ঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি অনুসরণ করা হয়। প্রয়োজনে ওভারটাইম করানো হলে তার জন্য নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার শ্রমিকের রয়েছে।
সাপ্তাহিক ও বার্ষিক ছুটি
সাপ্তাহিক ছুটি
প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সবেতন সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়ার অধিকার শ্রমিকের রয়েছে।
নৈমিত্তিক, পীড়া ও বার্ষিক ছুটি
নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শ্রমিকরা নৈমিত্তিক ছুটি, পীড়াজনিত ছুটি এবং দীর্ঘমেয়াদে চাকরি করলে বার্ষিক (আর্নড) ছুটি ভোগ করার অধিকারী — এই ছুটিগুলোর হার প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি ও শ্রমিকের চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
মাতৃত্বকালীন ছুটি
নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন সবেতন ছুটির বিধানও শ্রম আইনে রয়েছে, যা সময়ে সময়ে সংশোধনীর মাধ্যমে হালনাগাদ হয়েছে।
কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য
নিয়োগকর্তার দায়িত্ব হলো কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ রাখা — যথাযথ আলো-বাতাস চলাচল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি প্রস্থানপথ এবং বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এর অন্তর্ভুক্ত। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিক আহত বা নিহত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি বিধানও রয়েছে।
মজুরি ও অন্যান্য সুরক্ষা
- নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ মজুরি পাওয়ার অধিকার
- ন্যায্য কারণ ছাড়া চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা
- ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও সম্মিলিত দর কষাকষির অধিকার
- শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রম থেকে সুরক্ষা
অধিকার লঙ্ঘিত হলে করণীয়
কর্মক্ষেত্রে অধিকার লঙ্ঘিত হলে শ্রমিক প্রথমে প্রতিষ্ঠানের শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তা বা ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে বিষয়টি তুলতে পারেন। সুরাহা না হলে শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়েরের সুযোগও রয়েছে। চাকরিচ্যুতি বা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রমিকের নির্দিষ্ট অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন চাকরিচ্যুতি ও ছাঁটাইয়ে শ্রমিকের আইনগত অধিকার।

মন্তব্যসমূহ (০)