বাজারে পণ্য কিনতে গিয়ে ওজনে কম দেওয়া বা প্যাকেটের গায়ে লেখা তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের অমিল—এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সব ক্রেতারই হয়েছে। অনেকেই জানেন না যে এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনগত প্রতিকার রয়েছে।
ওজনে কারচুপি কেন অপরাধ
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত ওজন বা পরিমাপের চেয়ে কম দিয়ে পণ্য বিক্রি করা একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধ। ওজন ও পরিমাপ যন্ত্রে কারসাজি করে ক্রেতাকে ঠকানো হলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনে কারাদণ্ডের বিধান আইনে রয়েছে।
মিথ্যা বিজ্ঞাপন কীভাবে আইনের আওতায় পড়ে
পণ্যের গুণগত মান, উপাদান বা কার্যকারিতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করাও এই আইনে নিষিদ্ধ। যেমন—আসলে যে উপাদান নেই তা থাকার দাবি করা, বা প্রকৃত ফলাফলের চেয়ে অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোক্তাকে প্রতারিত করা হলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।
অভিযোগ করার প্রক্রিয়া
- প্রথমে ক্রয়ের রসিদ, প্যাকেট বা প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট দোকান বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রস্তুত করতে হয়।
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নির্ধারিত হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল বা সরাসরি কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করা যায়।
- অভিযোগের ভিত্তিতে অধিদপ্তর তদন্ত করে এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে।
- অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়, এবং একটি অংশ অভিযোগকারীকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার বিধানও আইনে রয়েছে।
প্রমাণ সংরক্ষণের গুরুত্ব
অভিযোগ শক্তিশালী করতে ক্রয়ের রসিদ, পণ্যের ছবি, ওজন পরিমাপের প্রমাণ বা বিজ্ঞাপনের কপি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া মৌখিক অভিযোগ কার্যকর তদন্তে সহায়ক হয় না।
ভোক্তা হিসেবে যা মনে রাখা উচিত
ছোটখাটো মনে হলেও ওজনে কারচুপি বা মিথ্যা বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সামগ্রিকভাবে বাজারে জবাবদিহিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভোক্তা অধিকার আইন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ নয়, বরং একই প্রতারণার শিকার হওয়া অন্য ক্রেতাদেরও সুরক্ষা দেয়।

মন্তব্যসমূহ (০)