j
আইন শিক্ষার্থীদের গাইড

OSCOLA রেফারেন্সিং কী এবং আইনের লেখায় কীভাবে ব্যবহার করবেন?

ল্যাপটপ ও খোলা বইয়ের সামনে ফুটনোট সাজাচ্ছে একজন আইন শিক্ষার্থী—কার্টুন চিত্র
প্রতীকী ছবি: আইন শিক্ষার্থীদের গাইড

মূল পয়েন্ট

  • OSCOLA আইনের লেখার জন্য তৈরি একটি ফুটনোটভিত্তিক রেফারেন্সিং পদ্ধতি
  • মামলার নাম ইটালিকে, তারপর সাইটেশন—এটাই মামলা উদ্ধৃত করার মূল কাঠামো
  • ফুটনোট বাক্যের শেষে বিরামচিহ্নের পরে বসে এবং পূর্ণচ্ছেদ দিয়ে শেষ হয়
  • শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন পদ্ধতি চাইলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে

অ্যাসাইনমেন্টের শেষে শিক্ষক যদি লেখেন "রেফারেন্সিং অসংগত", তাহলে সাধারণত বোঝায়: আপনি উৎস দিয়েছেন, কিন্তু একেক জায়গায় একেক নিয়মে। আইনের লেখায় এই সমস্যার সমাধান হিসেবে বহু বিশ্ববিদ্যালয় একটি নির্দিষ্ট রেফারেন্সিং পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলে। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত একটি হলো OSCOLA—Oxford University Standard for the Citation of Legal Authorities।

OSCOLA কেন আইনের লেখার জন্য উপযোগী

সাধারণ সামাজিক বিজ্ঞানের রেফারেন্সিং পদ্ধতিগুলো মূলত বই ও জার্নাল মাথায় রেখে তৈরি। আইনের লেখায় আসে মামলা, আইন, বিধিমালা, আন্তর্জাতিক চুক্তি—যেগুলোর উদ্ধৃতির নিজস্ব ধরন আছে। OSCOLA এসব আইনি উৎসের জন্য আলাদা নিয়ম দেয়। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফুটনোটনির্ভরতা। মূল লেখায় বন্ধনীর ভেতরে লেখকের নাম-বছর না বসিয়ে প্রতিটি উৎস পাতার নিচে ফুটনোটে দেওয়া হয়, ফলে মূল লেখা পরিচ্ছন্ন থাকে।

OSCOLA যুক্তরাজ্যে তৈরি হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক আইন বিভাগে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে আপনার প্রতিষ্ঠান বা কোর্স শিক্ষক অন্য কোনো পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দিলে সেটিই মানতে হবে। এখানে দেওয়া নিয়মগুলো মৌলিক কাঠামো বোঝানোর জন্য; বিস্তারিত নিয়মের জন্য OSCOLA-র সর্বশেষ সংস্করণের মূল গাইড দেখে নেওয়া ভালো।

ফুটনোটের তিনটি মৌলিক নিয়ম

  1. ফুটনোট নম্বর সাধারণত বাক্য বা বাক্যাংশের শেষে, বিরামচিহ্নের পরে বসে।
  2. প্রতিটি ফুটনোট পূর্ণচ্ছেদ দিয়ে শেষ হয়।
  3. একই উৎস পরপর দ্বিতীয়বার উদ্ধৃত করলে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা যায়। ঠিক আগের ফুটনোটের উৎস হলে "ibid" লেখা হয়। অন্য ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত নাম দিয়ে বন্ধনীতে প্রথম উদ্ধৃতির ফুটনোট নম্বর দেওয়া হয়, যেমন "(n 3)"।

মামলা উদ্ধৃত করা

কাঠামো: মামলার নাম (ইটালিক) + সাইটেশন + প্রয়োজনে আদালত + নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা বা অনুচ্ছেদ।

  • ইংরেজি মামলা: Donoghue v Stevenson [1932] AC 562 (HL).
  • বাংলাদেশি মামলা: Anwar Hossain Chowdhury v Bangladesh 41 DLR (AD) 165.
  • নির্দিষ্ট অংশ উল্লেখ করলে শেষে পৃষ্ঠা বা অনুচ্ছেদ যোগ করুন, যেমন "... 165, 180" বা "[25]"।

লক্ষ করুন, OSCOLA-তে "v"-এর পরে পূর্ণচ্ছেদ দেওয়া হয় না, আর মামলার নামে সংক্ষেপ যতটা সম্ভব কম রাখা হয়। বাংলাদেশি ল রিপোর্টের সাইটেশন কীভাবে পড়তে হয় তা জানতে দেখুন DLR, BLD, BLC: বাংলাদেশি ল রিপোর্টের সাইটেশন কীভাবে পড়বেন ও লিখবেন।

আইন ও সংবিধান উদ্ধৃত করা

আইনের ক্ষেত্রে সাধারণ কাঠামো হলো আইনের সংক্ষিপ্ত নাম ও বছর। ধারা উল্লেখ করলে শেষে "s" বা ধারা নম্বর যোগ হয়:

  • Contract Act 1872, s 56.
  • Code of Civil Procedure 1908, s 11.
  • Constitution of the People's Republic of Bangladesh, art 102.

বাংলা ভাষায় লেখা অ্যাসাইনমেন্টে একই কাঠামো বাংলায় অনুসরণ করা যায়, যেমন "চুক্তি আইন, ১৮৭২, ধারা ৫৬।" গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি ধরন বেছে নিয়ে পুরো লেখায় সেটিই রাখা। আইনের নির্ভরযোগ্য পাঠ পাওয়া যায় bdlaws.minlaw.gov.bd-এ।

বই উদ্ধৃত করা

কাঠামো: লেখকের নাম, বইয়ের নাম (সংস্করণ, প্রকাশক বছর) পৃষ্ঠা।

নমুনা: [লেখকের নাম], [বইয়ের নাম] ([সংস্করণ] edn, [প্রকাশক] [বছর]) [পৃষ্ঠা].

সংস্করণ, প্রকাশক ও বছর লিখবেন আপনার হাতে থাকা কপির শিরোনাম পাতা দেখে। একই বইয়ের ভিন্ন সংস্করণে পৃষ্ঠা নম্বর বদলে যায়, তাই সংস্করণ উল্লেখ করা জরুরি।

জার্নাল প্রবন্ধ উদ্ধৃত করা

কাঠামো: লেখক, 'প্রবন্ধের শিরোনাম' (বছর) খণ্ড জার্নালের নাম প্রথম পৃষ্ঠা, নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা।

প্রবন্ধের শিরোনাম একক উদ্ধৃতিচিহ্নে, ইটালিকে নয়। জার্নালের নাম সাধারণত সংক্ষিপ্ত রূপে লেখা হয়।

ওয়েবসাইট ও অনলাইন উৎস

কাঠামো: লেখক বা প্রতিষ্ঠান, 'শিরোনাম' (ওয়েবসাইট, প্রকাশের তারিখ) <URL> দেখার তারিখ।

OSCOLA-তে URL কৌণিক বন্ধনীর ভেতরে রাখা হয় এবং "accessed" লিখে দেখার তারিখ দেওয়া হয়। অনলাইন উৎসের ক্ষেত্রে দেখার তারিখ জরুরি, কারণ ওয়েবপেজ বদলে যেতে পারে।

গ্রন্থপঞ্জি (bibliography)

দীর্ঘ লেখা বা থিসিসের শেষে গ্রন্থপঞ্জি দিতে হয়। OSCOLA-তে সাধারণত মামলা, আইন ও দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস (বই, প্রবন্ধ) আলাদা তালিকায় রাখা হয়। গ্রন্থপঞ্জিতে লেখকের নাম আগে পদবি, পরে প্রথম নাম—এভাবে বর্ণানুক্রমে সাজানো হয় এবং নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা নম্বর দেওয়া হয় না।

সাধারণ ভুলগুলো

  • মামলার নাম ইটালিক না করা, বা পুরো সাইটেশন ইটালিক করে ফেলা।
  • একই লেখায় কখনো ফুটনোট, কখনো বন্ধনীতে লেখক-বছর।
  • "ibid" অপব্যবহার—মাঝে অন্য উৎস থাকলে ibid চলে না।
  • ইন্টারনেট থেকে পাওয়া সাইটেশন যাচাই না করে বসিয়ে দেওয়া।
  • বাংলা ও ইংরেজি সংখ্যা এলোমেলোভাবে মেশানো।

কাজ সহজ করার কৌশল

লেখার শুরুতেই একটি ছোট "স্টাইল শিট" বানিয়ে নিন: মামলা, আইন, বই, প্রবন্ধ ও ওয়েবসাইটের একটি করে নমুনা ফুটনোট। লেখার সময় প্রতিবার সেটি দেখে মিলিয়ে নিন। রেফারেন্স ম্যানেজার সফটওয়্যার ব্যবহার করলে সেখানে OSCOLA স্টাইল নির্বাচন করা যায়। তবে বাংলাদেশি ল রিপোর্টের সাইটেশন এসব সফটওয়্যার প্রায়ই ঠিকমতো সাজাতে পারে না, তাই শেষবার নিজে চোখ বুলিয়ে নেওয়া জরুরি।

সঠিক রেফারেন্সিং শুধু নম্বরের ব্যাপার নয়, একাডেমিক সততারও অংশ। বিষয়টি নিয়ে আরও পড়ুন আইনের অ্যাসাইনমেন্ট ও গবেষণাপত্রে plagiarism কীভাবে এড়াবেন।

শেষ কথা

OSCOLA-র সব নিয়ম একবারে মুখস্থ করার দরকার নেই। মামলা, আইন, বই ও প্রবন্ধ—এই চারটির কাঠামো আয়ত্তে আনলেই বেশিরভাগ অ্যাসাইনমেন্টের কাজ চলে যায়। বাকিটা প্রয়োজন অনুযায়ী মূল গাইড দেখে শিখে নেওয়া যায়।

শেয়ার করুন:
Legal Desk

Legal Desk

BDLawsDaily Legal Desk বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও গুরুত্বপূর্ণ রায় বিশ্লেষণ করে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যামূলক ও নাগরিকের প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।

মন্তব্যসমূহ (০)