চা-বাগান শ্রমিক পরিবারের কিশোরী গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর মামলায় দ্য ডেইলি স্টারের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারক মো. আলমগীর হোসেনের আদালত এই আদেশের পাশাপাশি দুই আসামির নতুন জামিন আবেদনও নাকচ করে দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মির্তিঙ্গা চা-বাগানের বাসিন্দা প্রীতি উরাং গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন আশফাকুল হকের বাসায়। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা একটি জানালা দিয়ে অষ্টম তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনার পর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে এবং ১৬ জুন মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়।
আদালতে যা হলো
বুধবারের শুনানিতে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন, অর্থাৎ মামলাটি এখন থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করল। উভয় আসামি আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার ও ওমর ফারুক আসিফ শুনানিতে অংশ নেন। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরবর্তী তারিখ ৪ জানুয়ারি ধার্য করেছেন।
আসামিদের আগের অবস্থা
ঘটনার পর আশফাকুল হক ও তানিয়া খন্দকার প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। তবে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে নতুন করে করা জামিন আবেদন এবার আদালত নাকচ করে দিয়েছে।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ
গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও তাঁদের অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যু এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল, কারণ এটি একজন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্যক্তিত্বের বাসভবনে ঘটেছিল। অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে আদালতই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে অভিযুক্তরা দোষী কি না।
উল্লেখ্য, ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ গঠন মানেই আসামি দোষী প্রমাণিত হওয়া নয় — এটি কেবল বিচার প্রক্রিয়া শুরুর একটি ধাপ। ফৌজদারি মামলায় আসামির আইনগত অধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন ফৌজদারি মামলায় আসামির আইনগত অধিকার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ।

মন্তব্যসমূহ (০)