j
মামলা ও কার্যক্রম

রানা প্লাজা নির্মাণ দুর্নীতি মামলা: ১২ বছর পরও রায় হলো না, নতুন করে যুক্তিতর্কের নির্দেশ আদালতের

নির্মাণ নথি, ভবনের নকশা ও আদালতের বিচারিক প্রতীকসহ দুর্নীতি মামলার প্রতীকী দৃশ্য
প্রতীকী ছবি: মামলা ও কার্যক্রম

মূল পয়েন্ট

  • রায় ঘোষণার দিনে রায় না দিয়ে নতুন যুক্তিতর্কের নির্দেশ দিলেন আদালত
  • মামলাটি রানা প্লাজা ধসের হত্যা মামলা নয় — এটি নির্মাণ-দুর্নীতির পৃথক মামলা
  • সোহেল রানাসহ আট আসামির মধ্যে দুজন এখনো পলাতক
  • ২০১৪ সালে এজাহার দায়েরের পর ১২ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলাটি

সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের সঙ্গে জড়িত নির্মাণ-দুর্নীতির মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)। তবে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ বি এম তরিকুল কবিরের আদালত রায় না দিয়ে মামলাটি নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ফিরিয়ে দেন — অর্থাৎ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার নিষ্পত্তি আরও পিছিয়ে গেল।

মামলাটি কী নিয়ে

এই মামলাটি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলের রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৬ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনার সরাসরি হত্যা মামলা নয় — এটি ভবনটির নকশা অনুমোদন, কাঠামোগত পরিবর্তন, অনুমোদনহীন অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং একটি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদিত ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক একটি মামলা।

আসামি কারা

মামলার আট আসামি হলেন ভবন মালিক সোহেল রানা, সাভারের সাবেক পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব। এদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছেন।

মামলার দীর্ঘ পথচলা

এই দুর্নীতি মামলায় এজাহার দায়ের হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৫ জুন, আর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয় ২০১৭ সালের ২১ মে। অর্থাৎ অভিযোগ গঠনের পর থেকেই মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে প্রায় নয় বছর ধরে, আর মূল ঘটনার পর থেকে হিসাব করলে ১২ বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে।

রায় না দিয়ে যুক্তিতর্কে ফেরত পাঠানোর অর্থ কী

আদালত রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে সিদ্ধান্ত না দিয়ে মামলাটি পুনরায় যুক্তিতর্ক শোনার জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ, বিচারক আরও পর্যালোচনা বা অতিরিক্ত শুনানি প্রয়োজন মনে করেছেন। ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ায় এটি অস্বাভাবিক নয়, তবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার ক্ষেত্রে এটি ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর জন্য হতাশাজনক একটি অগ্রগতি।

কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত, যা আন্তর্জাতিকভাবেও কারখানা নিরাপত্তা মান নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ভবন নির্মাণে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কীভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম ঘটেছিল তা প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিপর্যয় এড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই মামলার রায় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো আদালত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। একই ধরনের দীর্ঘসূত্রতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সাগর-রুনি হত্যা মামলার সাম্প্রতিক অগ্রগতিও উল্লেখযোগ্য, যেখানে বছরের পর বছর পার হলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

শেয়ার করুন:
Editorial Desk

Editorial Desk

BDLawsDaily Editorial Desk বাংলাদেশের আইন-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সংবাদ, সংসদীয় কার্যক্রম, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইন সংশোধনী সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করে।

মন্তব্যসমূহ (০)