গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির সব আইনগত অধিকার হারিয়ে যাওয়া নয়। বাংলাদেশের সংবিধান ও ফৌজদারি কার্যবিধি রিমান্ডে থাকা আসামিকেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা দিয়েছে, যা অনেকেরই অজানা।
রিমান্ড কী
রিমান্ড হলো তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাখার ব্যবস্থা। এটি কোনো শাস্তি নয়, বরং তদন্তের একটি অংশ।
২৪ ঘণ্টার নিয়ম
সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে ভ্রমণের সময় বাদ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে হাজির না করা হলে তা বেআইনি আটক হিসেবে গণ্য হতে পারে।
রিমান্ড মঞ্জুরের ক্ষমতা কার
পুলিশ নিজে থেকে কাউকে রিমান্ডে নিতে পারে না। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে আবেদন করতে হয়, এবং একমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটই যুক্তিসংগত কারণ বিবেচনা করে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে আসামিকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করে বা তার বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আসামির অধিকার
- কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার না হওয়ার অধিকার।
- পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়ে জানানোর অধিকার।
- একজন আইনজীবী নিয়োগ ও তার সঙ্গে পরামর্শ করার অধিকার।
- প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার, বিশেষত রিমান্ড শেষে পুনরায় আদালতে হাজির করার সময় শারীরিক পরীক্ষার সুযোগ।
নির্যাতনের অভিযোগ হলে প্রতিকার
রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে আসামি বা তার পরিবার আদালতের নজরে বিষয়টি আনতে পারেন, চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ করতে পারেন এবং নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (প্রতিরোধ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়েরের সুযোগও রয়েছে।
সংক্ষেপে যা মনে রাখা জরুরি
রিমান্ড তদন্তের একটি বৈধ প্রক্রিয়া হলেও তা সীমাহীন ক্ষমতা নয়—নির্দিষ্ট সময়সীমা, বিচারিক তত্ত্বাবধান ও আসামির মৌলিক অধিকার রক্ষার শর্তেই তা পরিচালিত হওয়ার কথা। এই অধিকারগুলো জানা থাকলে আসামি ও তার পরিবার অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন।

মন্তব্যসমূহ (০)