বাবা-মা বা পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়া গেলেই তা আপনাআপনি সরকারি রেকর্ডে আপনার নামে উঠে যায় না। জমির প্রকৃত মালিকানা সরকারি খতিয়ানে প্রতিফলিত করতে হলে নামজারি বা মিউটেশন করা প্রয়োজন — এই প্রক্রিয়া ছাড়া জমি বিক্রি, বন্ধক বা খাজনা পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হয়।
নামজারি কেন জরুরি
নামজারি হলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে জমির মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। উত্তরাধিকার সূত্রে জমি পাওয়ার পরও নামজারি না করলে সরকারি নথিতে জমি আগের (মৃত) মালিকের নামেই থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে জমি বিক্রি, ব্যাংক ঋণ বা অন্য কোনো লেনদেনে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- ওয়ারিশ সনদ (উত্তরাধিকার সনদ)
- মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ
- পূর্ববর্তী মালিকানার খতিয়ান ও দলিলের কপি
- সাম্প্রতিক খাজনা পরিশোধের রসিদ
- আবেদনকারী ও অন্য ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র
ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন ওয়ারিশ সনদ (উত্তরাধিকার সনদ) পাওয়ার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
নামজারির ধাপ
- সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি অনলাইন সিস্টেমে আবেদন দাখিল করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
- ভূমি অফিস আবেদন যাচাই করে প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত করে।
- আপত্তি না থাকলে নতুন খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান নম্বর ইস্যু করা হয়।
একাধিক ওয়ারিশ থাকলে করণীয়
একাধিক ওয়ারিশ একসঙ্গে জমির মালিক হলে নামজারির আবেদনে প্রত্যেকের অংশ অনুপাত অনুযায়ী মালিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। অংশ নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে দ্বিমত থাকলে আগে তা মীমাংসা করা ভালো, নাহলে ভবিষ্যতে বণ্টন মামলার প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণ সমস্যা ও সতর্কতা
- খতিয়ানে নাম ভুল বা বানান গরমিল থাকলে আগে তা সংশোধনের আবেদন করতে হবে
- কোনো ওয়ারিশ আপত্তি জানালে নামজারি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে
- নামজারি শেষে নতুন খতিয়ান অনুযায়ী নিয়মিত খাজনা পরিশোধ চালিয়ে যেতে হবে
জমি কেনার আগে দলিল ও মালিকানা যাচাইয়ের নিয়ম জানতে পড়ুন জমি কেনার আগে দলিল ও মালিকানা যাচাইয়ের সঠিক নিয়ম।

মন্তব্যসমূহ (০)