বাজার থেকে কেনা মসলা, দুধ বা প্যাকেটজাত খাবারে ভেজাল কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুটি প্রধান আইনি কাঠামো কাজ করে — নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯।
কোন কোন কাজ আইনের আওতায় অপরাধ
- খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত উপাদান মেশানো
- মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য নতুন মোড়কে বা লেবেল পরিবর্তন করে বিক্রি করা
- ওজনে কম দেওয়া বা নিম্নমানের পণ্যকে ভালো মানের বলে বিক্রি করা
- পণ্যের গায়ে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া
অভিযোগ করার ধাপ
- যতটা সম্ভব পণ্যের রসিদ, মোড়ক বা প্যাকেট সংরক্ষণ করুন — মেয়াদ ও ব্যাচ নম্বর স্পষ্ট থাকলে ভালো।
- জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইনে কল করে বা সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করুন।
- খাদ্যে ভেজালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষেও পৃথকভাবে অভিযোগ জানানো যায়।
- প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতেও তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানো সম্ভব।
কী ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল বা সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য আদালতে মামলা করে শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ উভয়ই দাবি করা সম্ভব। ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় ভুক্তভোগী নিজেও নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।
অভিযোগ কার্যকর করতে যা মনে রাখবেন
- ঘটনার যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ জানান — পণ্য বা প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আগেই
- একাধিক ভোক্তা একই সমস্যায় ভুগলে যৌথ অভিযোগ বেশি কার্যকর হতে পারে
- অভিযোগের রশিদ বা ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন যাতে পরবর্তীতে অগ্রগতি জানা যায়
সাধারণভাবে প্রতারিত হলে কোথায় অভিযোগ করবেন তা জানতে পড়ুন প্রতারিত হলে কোথায় অভিযোগ করবেন: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, আর অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতারিত হলে পড়ুন অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে ভোক্তা অধিকারে কীভাবে অভিযোগ করবেন।

মন্তব্যসমূহ (০)